On page seo basic concept

এককথায় অনপেজ এসইও হলো একটা ওয়েবসাইট এর অভ্যান্তরীন দিক গুলো অপ্টিমাইজ করা অর্থাৎ সার্চইঞ্জিনের নিয়ম অনুসারে সাজানো যাতে করে ইউজার আপনার সাইট কে পছন্দ করে এবং কোনো তথ্য জানার জন্য পুনরায় আপনার সাইট টা ভিসিট করে । এসইও এর মধ্যে অনপেজ এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কাঙ্খিত ফলাফল পেতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে । এমনকি অনপেজ এসইও এর মাদ্ধমে সার্চইঞ্জিন কে আপনি আপনার ওয়েবসাইট অথবা ওয়েবপেজ সম্পর্কে অবহিত করতে পারেন, এবং আপনি কোন পেজ এর জন্য কোন কীওয়ার্ড বাছাই করেছেন সে সম্পর্কে সার্চ ইঞ্জিনে পূর্ণাজ্ঞ ধারণা লাভ করে ।

অনপেজ এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগে চলুন জেনে নেই গত পর্বে আমরা কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি।

গত পর্বে যা শিখেছি

কিওয়ার্ড কি?
কিওয়ার্ড রির্সাচ কি?
স্টেপ বাই স্টেপ কিওয়ার্ড রির্সাচ
কিওয়ার্ড বাছাই এর নিয়ম গুলো

যদি কেউ গত পর্বের বিষয়টি পরে না থাকেন তবে এই লিংক থেকে পড়তে অথবা ধারণা নিতে পারেন ।

অনপেজ এসইও কি / কাকে বলে?

অনপেজ এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গেলে একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে, যেমন ধরুন আপনার একটা দোকান আছে (ওয়েবসাইট), এবং অনেক রকম পণ্য ও রয়েছে, এখন দোকানের এর ডিজাইন কেমন হবে, রং কেমন হবে, (সাইট এর UX, UI) কোথায় কোন ধরণের পণ্যটা রাখলে খুব সহজেই কাস্টমার এর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে (একটি পেজ এর মধ্যে কনটেন্ট দেওয়া এবং সুন্দর করে সাজানো), পণ্যের কোয়ালিটি সম্পর্কে খবু ছোট করে বিস্তারিত বর্ণনা, বিভিন্ন সাইন এর মাদ্ধমে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া । এইসব বিষয় গুলোর সমষ্টি কে অনপেজ এসইও বলে । একটা ওয়েবসাইট এর অনপেজ এসইও নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের এর ওপর ভিত্তি করে করা হয় । তাহলে চলুন, অনপেজ এসইও এর বিষয় গুলো সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে আলোচনা করা যাক।

অনপেজ এসইও মেট্রিক্স গুলো কি কি?

টাইটেল: পেজে, পোস্ট অথবা ক্যাটাগরি টাইটেল হতে হবে অর্থবহ । টাইটেল খুব বেশি, ছোট, খুব বেশি বড়ো না হওয়ায়টাই ভালো। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে, ছোট বড়ো বা মাঝারি হতে পারে। তবে খেয়াল রাখা উচিত যেন খুব বেশি এমনটা না হয়।

ইউআরএল কাঠামো: একটি পেজ, পোস্ট এবং ক্যাটাগরি এর ইউআরএল লেন্থ যত ছোট রাখা যায় ততোই ভালো । সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আপনার বাছাইকৃত কীওয়ার্ড ইউআরএল হিসেবে রাখা এবং ইউআরএল এ আন্ডারস্কোর অথবা কোনো সংখ্যা ব্যবহার না করা। ইউআরএল কাঠামো হওয়া উচিত ডোমেইন/পোস্ট অথবা পেজে অথবা ক্যাটাগরি নাম ।

হেডিং ট্যাগ: একটি ওয়েবসাইট এর জন্য হেডিং ট্যাগ অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে । সার্চইঞ্জিন একটা ওয়েব পেজের কোনো অংশটি বেশি গুরুত্ব পূর্ণ তা হেডিং ট্যাগ দ্বারা বুঝতে পারে । হেডিং ট্যাগ মূলত (h1 – h6) হয়ে থাকে । টাইটেল অবশ্যই h1 হতে হবে। বাছাইকৃত প্রধান কীওয়ার্ড হবে h2 ট্যাগ এবং অন্য অন্য পয়েন্ট গুলো অথবা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলো হবে h3 ট্যাগ । বাকি অংশগুলো এভাবেই সাজাতে হবে । তবে কেউ চাইলে শুধু মাত্র h1-h3 অথবা h4 ট্যাগ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবে ।

কন্টেন্ট লেন্থ: কন্টেন্ট বাংলা হোক অথবা ইংলিশ, সর্বনিম্ন ৫০০ ওয়ার্ড হওয়া উচিত, তবে কন্টেন্ট এর বিষয় অনুযায়ী এটা নির্ভর করে যে কত ওয়ার্ড হবে । অনেক ক্ষেত্রে এটা ৩০০ ওয়ার্ড ও হতে পারে। কিন্তু আপনি যখন একটা বিষয় নিয়ে লিখবেন, অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে আপনার কম্পেটিটরসরা কত ওয়ার্ড লিখেছে । আপনার বাছাইকৃত কীওয়ার্ড দিয়ে গুগল সার্চ করে ফার্স্ট পেজে এর ১০ সাইট এর এভারেজ কনটেন্ট লেন্থ দেখে নিবেন এবং মিনিমাম ততো ওয়ার্ড এর কন্টেন্ট লিখতে হবে । ভালো হয় যদি ফার্স্ট পেজ এ থাকা ১০ জন এর এভারেজ কন্টেন্টন ওয়ার্ড এর চেয়ে কিছু বেশি লিখলে। তবে সে ক্ষেত্রে আপনাকে কোয়ালিটির দিকে ও নজর রাখতে হবে । খেয়াল রাখবেন যেন শুধু লেন্থ এ যেন না বাড়ে । ওয়ার্ড এর পাশাপাশি যেন কোয়ালিটি ও ঠিক ঠাক থাকে ।

কীওয়ার্ড এর ব্যবহার: কন্টেন্ট এ কীওয়ার্ড এর ব্যাবহার এর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যেন ওভার অপ্টিমাইজ না হয় । আমার মতে প্রধান কীওয়ার্ড এর ব্যবহার ১% এর ওপর হওয়া উচিত নয় । অনেক টুলস আছে যারা ২.৫% পর্যন্ত ও কীওয়ার্ড ব্যবহারের জন্য সাজেস্ট করে থাকে । তবে চেষ্টা করবেন, প্রধান কীওয়ার্ড যত কম ব্যবহার করে যায় ততই ভালো । আমি সাজেস্ট করবো প্রধান কীবোর্ড এর ব্যবহার যেন ০.৫% হয়। অর্থাৎ প্রতি ১০০০ ওয়ার্ড এর কনটেন্ট এ আপনি ৫বার প্রধান কীবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন । কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি ও ব্যবহার করতে পারেন, তবে হেয়ালি রাখবেন যেন ১% এর ওপরে না যায় । এতে কোয়ালিটি নষ্ট হয় ।

এল.এস.এই এবং লংটেল কীওয়ার্ড এর ব্যবহার: এল.এস.এই এবং লংটেল কীওয়ার্ড সম্পর্কে বিস্তারিত অন্য একটা পর্বে বিশদ ভাবে আলোচনা করবো ইনশাল্লাহ। এল.এস.এই এবং লংটেল কীওয়ার্ড এর ব্যবহার ১% এর অবশিষ্ট %। অর্থাৎ আপনি যদি। ০.৭% প্রধান কেয়োওর্ড ব্যবহার করেন, বাকি ০.৩% হবে এল.এস.এই এবং লংটেল কীওয়ার্ড। অর্থাৎ প্রধান কীওয়ার্ড ডেন্সিটি এর ওপর নির্ভর করবে আপনি কত গুলো এল.এস.এই এবং লংটেল কীওয়ার্ড ব্যবহার করে পারবেন ।

কীওয়ার্ড স্টাফিং: কীওয়ার্ড স্টাফিং এবং কীওয়ার্ড ডেন্সিটি বিষয় ২টা আলাদা হলেও অনেকেই একসঙ্গে গুলায় ফেলে । কন্টেন্ট লেখার সময় এবং পাবলিশ এর পূর্বে খেয়াল রাখবেন যেন কীওয়ার্ড স্টাফিং না হয় । কারণ কীওয়ার্ড স্টাফিং হয়েছে এমন আর্টিকেল কে গুগল লো-কোয়ালিটি আর্টিকেল হিসেবে চিন্নিহিত করে । কীওয়ার্ড ডেন্সিটি হলো আপনি কত % মেইন কীওয়ার্ড ব্যাবহার করেছেন তার একটা পরিমান আর কীওয়ার্ড স্টাফিং হলো আপনি অযথা কীওয়ার্ড ব্যবহার করেছেন । অর্থাৎ আপনার কীওয়ার্ড ডেন্সিটি ০.৭% থাকলে ও কীওয়ার্ড স্টাফিং হতে পারে । যেমন আপনার আর্টিকেল এ কীওয়ার্ড ডেন্সিটি ০.৫% কিন্তু আপনি ১০০ ওয়ার্ড এর একটা পেরাগ্রাফ এর মধ্যে ২বার অথবা এর অধিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করেছেন ।

ইন্টারনাল লিংক এর ব্যবহার: ইন্টারনাল লিংক হলো আপনার ওয়েবসাইট এর এক পেজে, পোস্ট থেকে অন্য পেজে, পোস্ট লিংক এর মাদ্ধমে সংজযুক্ত করা । ইন্টারনাল লিংক একটি ওয়েবসাইটে ভিসিটর কে বেশিসময় একটিভ রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে, এমনকি সার্চইঞ্জিনে কে দ্রুত ইনডেক্স করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকে। ইন্টারনাল লিংক এর ব্যবহার-এ কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় । অনেকেই ১-১০টা পর্যন্ত ইন্টারনাল লিংক ব্যবহার করে থাকে । যদি কন্টেন্ট লেন্থ বেশি হয় তবে প্রয়োজন অনুযায়ী ইন্টারনাল লিংক ব্যবহার করে পারেন। তবে আমি সাজেস্ট করি ৩-৫বার এর বেশি ইন্টারনাল লিংক ব্যবহার না করায় ভালো ।

এক্সটার্নাল লিংক এর ব্যবহার: এক্সটার্নাল লিংক হলো আপনার পেজে, পোস্ট থেকে অন্য একটি রিলেভেন্ট এবং অথোরেটিভ ওয়েবসাইট কে লিংক এর মাদ্ধমে সংযুক্ত করা । এক্সটার্নাল লিংক এর সুবিধা হলো ভিসিটর কে পরিপূর্ণ ইনফরমেশন দিতে সহায়তা করে এবং সার্চইঞ্জিনে কে ওয়েবসাইট সম্পর্কে ইনফোরমেটিভ ধারণা প্রদান করে। এক্সটার্নাল লিংক সর্বনিম্ন একবার ব্যবহার করার জন্য আমি সাজেস্ট করে থাকি, তবে পেজে এবং পোস্ট এর প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি যথেষ্ট পরিমানে এক্সটার্নাল লিংক ব্যবহার করে পারেন।

ইমেজ অপ্টিমিজেশান: ইমেজ অপ্টিমিজেশান অনপেজে এসইও এর একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এক একটা ইমেজ মিনিমাম ৩০০ ওয়ার্ড এর টেক্সট কনটেন্ট এর চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। একটি ইমেজ এর মাদ্ধমে ভিসিটর কে আপনি যেমন ধারণা দিয়ে পারবেন, তা লিখে ধারণে দিতে আপনাকে অনেক ওয়ার্ড এর কনটেন্ট লিখতে হবে । তাহলে বুঝতেই পারছেন ইমেজ এর গুরুত্ব কতটা। খুব সংক্ষিপ্ত পরিসরে ইমেজ অপ্টিমিজেশান করা যায়, যেমন, ইমেজটা অবশই ইউনিক হতে হবে, ইমেজ এর টাইটেল এবং ওল্টাটেক্সট ব্যবহার করা, টাইটেল এবং ওল্টাটেক্সট আপনার বাছাইকৃত হওয়া আবশ্যক, ইমেজ ডেসক্রিপশন ব্যবহার করা, ইমেজ ক্যাপশন ব্যবহার করা, এবং সর্বোপরি খেয়াল রাখতে হবে যেন ইমেজ ৫০ থেকে ৭০ কিলোবাইট এর বেশি না হয়ে, এতে সাইট লোডিং স্পিড বেড়ে যেতে পারে। যা ভিসিটর কে বিরক্ততা এনে দেয়।

মেটাটাইটেল: মেটাটাইটেল সার্চইঞ্জিনে এর একটা রাংকিং ফ্যাক্টর। আপনার ওয়েবসাইট এর টার্গেট কীওয়ার্ড এবং কন্টেন্টন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতে মেটাটাইটেল এর ভুমিকা বলে শেষ করার মতো না। সার্চইঞ্জিন এর পাশা পাশি ইউসাররা ও প্রাথমিক ধারণা পায় মেটাটাইটেল থেকে। ওয়েবসাইট এর বিষয় অনুযায়ী মেটাটাইটেল লিখার মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। তবে সব ধরণের ওয়েবসাইট এর জন্য মেটাটাইটেল লেখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ফলো করতে হয়, যেমন; মেটাটাইটেল অবশ্যই ৫০-৬০ ক্যারেক্টার এর মধ্যে হতে হবে এবং ৫১৩ পিক্সেল এর বেশি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এর বেশি হয়ে গেলে সার্চইঞ্জিনে সার্চরেজাল্ট পেজে পুরো টাইটেলটি শো করবে না ইলিপ্সেচ শো করবে। পরবর্তীতে শুধু মাত্র মেটাটাইটেল নিয়ে একটা আর্টিকেল লিখবো, যেখানে কয়েক ধরণের ওয়েবসাইটের এর মেটাটাইটেল লিখার বেস্ট উপায়টা আলোচনা করবো।

মেটাডেসক্রিপশন: মেটাডেসক্রিপশন ডিরেক্ট সার্চইঞ্জিন এর রাংকিং ফ্যাক্টর না হলেও মেটাটাইটেল এর চেয়ে কম গুরুত্ব বহন করে না। আমার মতে মেটাডেসক্রিপশন ও সার্চইঞ্জিন এর একটি রাংকিং ফ্যাক্টর, যেমন কোনো কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চইঞ্জিন-এ সার্চ করলে, সার্চইঞ্জিন রেসাল্ট পেজে শো করা লিস্ট এ থাকা কীওয়ার্ড গুলো গুগল বোল্ড করে শো করায়। মেটাডেসক্রিপশন লেখার সবচেয়ে ভালো নিয়ম হলো মেটাডেসক্রিপশন ১৫৫ ক্যারেক্টার এর মধ্যে হতে হবে এবং ৯২০ পিক্সেল এর বেশি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

অনপেজে এসইও এর প্রধান বিষয়গুলো নিয়ে মোটামুটি একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি সবারই ভালো লাগবে এবং খুব ভালো ভাবে বুঝেতে পারবেন। পরবর্তীতে অনপেজ এসইও নিয়ে বিস্তারিত লিখবো, যেখানে অনপেজে এসইও এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশদ ভাবে আলোচনা করা থাকবে। ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করুন, নিজে জানুন অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন।

আপাতত ভালো থাকবেন সবাই। অবশ্যই ভুলত্রুটি মার্জনীও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *